ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব -১ গ্রাম বাংলার রূপসী কন্যা - July24bd

Breaking

July24bd

বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ, খেলাধুলা, বিনোদন ও ব্রেকিং নিউজের বিশ্বস্ত বাংলা নিউজ পোর্টাল।

script> atOptions = { 'key' : 'bbc99ef66f096113d23e563799348298', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

Monday, 16 March 2026

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব -১ গ্রাম বাংলার রূপসী কন্যা

 ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব -১

গ্রাম বাংলার রূপসী কন্যা

কলমে নাট্যকার মোঃমনির সরদার 

গোসাইরহাট ,শরীয়তপুর। 



সবুজে ঘেরা ছোট্ট এক গ্রাম। চারদিকে ধানক্ষেত, মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটি সরু নদী। সকালে কুয়াশা নেমে আসে, আর বিকেলে মাঠ জুড়ে শালিক আর বকেরা উড়ে বেড়ায়। নওগাঁ জেলার সেই শান্ত সুন্দর গ্রামের নাম ছিল সোনাপুর।


সোনাপুর গ্রামের মানুষ খুব সহজ সরল। সবাই সবাইকে চেনে, সবাই একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে থাকে। সেই গ্রামেরই এক সাদামাটা পরিবারে জন্ম নেয় এক কন্যা শিশু।


মেয়েটির বাবা মোস্তাফিজুর রহমান একজন পরিশ্রমী কৃষক। আর মা হালিমা বেগম খুব স্নেহময়ী গৃহিণী। বহুদিন ধরে তারা একটি সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।


একদিন ভোরবেলা, আকাশে লাল সূর্য উঠছে, পাখিরা ডাকছে— ঠিক সেই সময় তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা শিশু।


গ্রামের ধাইমা হাসতে হাসতে বললেন,

“মাশাল্লাহ! কী সুন্দর মেয়ে হয়েছে!”


শিশুটির মুখ ছিল চাঁদের মতো উজ্জ্বল। বড় বড় চোখ, গোলাপি ঠোঁট, আর মিষ্টি হাসি যেন সবার মন ভরিয়ে দেয়।


খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে।


পাড়ার মানুষজন একে একে দেখতে আসে। কেউ বলে,

“এ তো একেবারে পরীর মতো!”


কেউ আবার বলে,

“এই মেয়ে বড় হয়ে অনেক নাম করবে।”


বাবা মোস্তাফিজুর রহমান মেয়েকে কোলে নিয়ে খুব আবেগে ভরে গেলেন। তার চোখে যেন আনন্দের জল ঝিলমিল করছিল।


সন্ধ্যায় গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেবকে ডাকা হলো নাম রাখার জন্য।


সবাই বসে আছে উঠোনে। হালকা বাতাস বইছে, আকাশে উঠেছে পূর্ণিমার চাঁদ।


ইমাম সাহেব শিশুটির দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,

“এই মেয়ের নাম হবে মেফ্তাহুল জান্নাত।”


নামের অর্থ শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল।


মেফ্তাহুল জান্নাত — অর্থ জান্নাতের চাবি।


মা হালিমা বেগম মেয়েকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরলেন। মনে মনে দোয়া করলেন—


“আল্লাহ, আমার মেয়েকে ভালো মানুষ করো।”


সেই দিন থেকে ছোট্ট জান্নাত হয়ে উঠলো সোনাপুর গ্রামের সবার আদরের মেয়ে।


যখন সে একটু বড় হতে লাগলো, তখনই বোঝা গেল সে অন্যদের থেকে আলাদা। তার হাসি ছিল খুব মিষ্টি, আর তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।


গ্রামের বৃদ্ধারা তাকে দেখে বলত,

“এই মেয়ে একদিন গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে।”


সন্ধ্যার সময় যখন আকাশে পাখিরা বাসায় ফিরে যায়, তখন ছোট্ট জান্নাত মায়ের কোলে শুয়ে আকাশের তারা দেখে।


মা তাকে গল্প শোনান—

রূপকথার গল্প, রাজকন্যার গল্প, আর স্বপ্নের গল্প।


আর সেই গল্প শুনতে শুনতেই ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে গ্রামের সেই রূপসী কন্যা—


মেফ্তাহুল জান্নাত।


এভাবেই শুরু হলো তার জীবনের গল্প।


একটি গ্রামের গল্প।

একটি মেয়ের স্বপ্নের গল্প।

একটি ভবিষ্যতের গল্প।

No comments:

Post a Comment